ঢাকা বৃহস্পতিবার ৩রা এপ্রিল, ২০২৫
নওগাঁর রাণীনগরের সাব্বির হোসেন। ছোট বেলা থেকেই হার্টের (হৃদরোগ) সমস্যা নিয়ে বড় হয়েছে। এখন তার বয়স ২২ বছর। যত দিন যাচ্ছে, ততই বেড়ে চলেছে তার হার্টের সমস্যা। আবার তার একটি ভালভেরও সমস্যা (রোগ) ধরা পড়েছে। ছোট বেলা থেকেই তার চিকিৎসা করাতে করাতে নিঃস্ব হয়ে গেছে পরিবার। তার বাড়ি রাণীনগর উপজেলা সদরের মধ্য রাজাপুর গ্রামে। সে ওই গ্রামের কাঠ মিস্ত্রী হাফিজুর রহমান বাবুর ছেলে।
পরিবারের অভাব-অনাটনের কারণে ও অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে সাব্বিরের উন্নত চিকিৎসা। ছেলেকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের ও সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন তার পরিবার। এমনকি সাব্বিরের উন্নত চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন করে উপজেলা সদরের রাণীনগর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার টাঙানো হয়েছে।
সাব্বিরের বাবা পেশায় একজন কাঠ মিস্ত্রী। পরিবারের মধ্যে একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি তিনি। তার উপার্জনে চলে তাদের পরিবার ও সাব্বিরের চিকিৎসা।
সাব্বিরের বাবা হাফিজুর রহমান বাবু জানান, জন্মের ২ মাস পর সাব্বিরের হার্টের (হৃদরোগ) সমস্যা ধরা পড়ে। ছোট বেলা থেকেই দেশের বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে ও ভারতের এক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করিয়ে আসছি। এ পর্যন্ত ২৩ লক্ষাধিক টাকা চিকিৎসার পিছনে খরচ করেছি। কিন্ত সাব্বির এখনো সুস্থ হয়ে উঠেনি। বড় হয়ে যাওয়ার পর তার হার্টের সমস্যা আরও বেশি হয়ে গেছে।
তিনি জানান, কয়েক মাস আগে সাব্বিরকে নিয়ে ভারতের একজন চিকিৎসাকের কাছে গিয়েছিলাম। চিকিৎসক বলেছেন- দ্রুত (কয়েক মাসের মধ্যে) সাব্বিরের হার্টের অপারেশন করাতে হবে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন। আবার সাব্বিরের একটি ভালভের সমস্যা ধরা পড়েছে। এজন্য আরো টাকার লাগবে। এমতাবস্থায় আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় পড়েছি।
সহায় সম্বল সব কিছু বিক্রি করে এতদিন ছেলের চিকিৎসা করিয়েছি। বর্তমানে চিকিৎসা করানোর মত কোন অর্থই আমাদের কাছে নেই। আমাদের অভাবের সংসারে সাব্বিরের চিকিৎসা করাতে অর্থ আর জোগান দিতে পারছিনা। তাই সমাজের বিত্তবানদের ও সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য পেলে চিকিৎসা করিয়ে ছেলেকে হয়তো বাঁচাতে পারতাম।
সাব্বির বলেন, আমি বেঁচে থেকে ভালো কিছু করতে চাই। কিন্তু পরিবারের অভাব অনাটনের কারণে বাঁচার আশা দিন দিন মনে হয় ফুরিয়ে যাচ্ছে। সমাজের বিত্তবানদের ও সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য পেলে চিকিৎসা করিয়ে হয়তো আমি বেঁচে থাকতে পারবো। আল্লাহ জানেন আমার ভাগ্যে কি লেখা আছে।
সাহায্য পাঠানোর জন্য সাব্বিরের বাবার বিকাশ নম্বর (০১৭২৬-৪৮০৬৮৭) ও সোনালী ব্যাংক রাণীনগর শাখার সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর (৪৮১৮১০১০১৯৫৭৮)।
রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, সাব্বিরের বিষয়টি আমরা খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি। উপজেলা প্রশাসন অথবা সমাজসেবার পক্ষ থেকে সাব্বিরকে সহযোগীতা করার চেষ্টা করবো।
আপনার মতামত লিখুন :